এইচ এম জালাল উদ্দীন কাউছার, উখিয়া;
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাদের দাবি, কিছু এনজিও, দালালচক্র এবং অসাধু ব্যক্তিদের যোগসাজশে ক্যাম্পকেন্দ্রিক নানা অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে, যার প্রভাব স্থানীয় জনজীবনেও পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশে সরকারি বনভূমি দখল করে নতুন অফিস ও বসতঘর নির্মাণের ঘটনা ঘটছে। এসব স্থাপনা বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হলেও সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এছাড়া ক্যাম্প পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রমে স্থানীয়দের পরিবর্তে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে। তাদের দাবি, এর ফলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রীর একটি অংশ বিভিন্ন উপায়ে ক্যাম্পের বাইরে চলে যাচ্ছে। পরে এসব পণ্য কম দামে কিনে বাজারজাত করছে একটি চক্র। ক্যাম্পে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু বাসিন্দার দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশকারী কিছু যানবাহন যথাযথ তল্লাশির আওতায় না আসায় মাদক পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ইয়াবা পাচারের বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পের ভেতরে অবৈধভাবে সিএনজি, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চলাচল করছে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করা হয় বলে তাদের দাবি। তারা জানান, স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় একটি এনজিওর গাড়ি ও মালবাহী ট্রাকের মধ্যে দুর্ঘটনার ঘটনাকেও কেন্দ্র করে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘটিত যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপরাধের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে মাদক পাচার, অবৈধ অর্থ আদায় ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
